‘বুড়ো’ কর্তাদের সরে যাওয়ার বার্তা ক্রীড়ামন্ত্রীর? অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক

0

ইনসাইড স্পোর্টসের প্রতিবেদন : যে সব আসোসিশনের কর্তারা দীর্ঘ ২৫/৩০ বছর ধরে পদে বসে আছেন, অথচ সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকেই পদক আসছে না, পারফরমেন্স নেই। এবার সেই কর্তাদের ভাবার সময় এসেছে। এমন মন্তব্য করেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আজ, বৃহস্পতিবার, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে BOA এর শতবর্ষের সমাপ্তি অনুষ্ঠান ও রাজ্য মিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন,এবারের জাতীয় গেমসে BOA এর ২৪ টি সংস্থা কোনো পদক আসেনি। কেন পদক এলো না? ভাবতে হবে। পারফরমেন্স নেই। শুধু মিষ্টি খাবো আর তেঁতো খাবো না, এটা হতে পারে না। যারা ২৫/৩০ বছর ধরে আছেন তাঁদের এবার ভাবতে হবে।


প্রসঙ্গত, ক্রীড়ামন্ত্রী বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৌশলে বিভিন্ন খেলার ‘বুড়ো’ কর্তাদের কার্যত সরে যাওয়ার বার্তা দিলেন। এটা ঘটনা, এমন কিছু খেলার বেশ কিছু ‘বুড়ো’ কর্তা আছেন যাঁরা বছরের পর বছর চেয়ার দখল করে আছেন। ‘দেহত্যাগ না করলে পদত্যাগ না করা’র মানসিকতা নিয়ে চেয়ারে বসে আছেন। মন্ত্রীর এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য সোনার পর একটি সংস্থার প্রবীণ সচিব (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ) ‘inside sports কে বলছিলেন,’যিনি এই কথা গুলি বলছেন তিনি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। আমরাও কিন্তু নির্বাচেনে জিতে পদে এসেছি। নিজের ইচ্ছে তে তো চেয়ারে বসিনি! আমি বাড়িতে হাঁড়ি চড়িয়ে মাঠ করতে আসিনি।’

Oplus_131072

এদিকে, এদিন BOA এর অনুষ্ঠান ঘিরে নানান অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খেলোয়াড়দের ঠিক সময়ে খেতেই দেওয়া হল না। কার্যত খালি পেটে অনুষ্ঠানের উৎসবে সামিল হলেন খেলোয়াড়রা। দুপুর বারোটার মধ্যে খেলোয়াড়রা নেতাজি ইনডোরে পৌঁছে যান। তারা সেই সকালে খেয়ে বেরিয়েছেন। দুপুরে আসার পর খাবার কুপন পেলেন সঙ্গে সঙ্গে। আর খাবার পেলেন বিকেল ৫ টার পর। ছেলে মেয়েদের এতটাই খিদে পেয়ে যায় যে, অধিকাংশ খেলোয়াড়দেড় বাধ্য হয়ে বাইরে বেরিয়ে কেক, বিস্কিট খেতে হয়। রাজ্য সাইকেল সংস্থার অন্যতম কর্তা রিক্তা ধর দুঃখ করে বলছিলেন,’কত দূর থেকে ছেলে মেয়েরা এসেছে। সেই সকালে খেয়ে বেরিয়েছে। খাবারটা দুপুরে দিলে ভালো হত। এটা ঠিক করেনি।’

এই ব্যাপারে BOA এর সভাপতি চন্দন রায় চৌধুরীকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান,’আগে খাবারের প্যাকেট দিলে ইনডোরে আর কেউ থাকতো না। আমরা তো অনুষ্ঠানের শেষে প্যাকেট দিয়েছি।’ চন্দনবাবুর অযৌক্তিক বক্তব্য শোনার পর আর প্রশ্ন করার ইচ্ছেই হয়নি।
এবারের রাজ্য মিটের চেয়ারম্যান করা হয়েছে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে। BOA এর সভাপতি, সচিব, ট্রেসারাররা থাকা সত্ত্বেও স্বরূপ বিশ্বাস যেন BOA এর মুখ। এই ভাবেই দেখানো হচ্ছে। রাজ্য মিটে যাবতীয় পরিকল্পনা, প্রয়োগ – সবই নাকি স্বরূপের। এতো বড় দায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই সমালোচনার মুখে তিনি।

Oplus_131072

অনুষ্ঠান মাঝপথে বেরিয়ে যাওয়ার সময় স্বপন (বাবুন ) ব্যানার্জী বলে গেলেন,’BOA এর শতবর্ষ অনুষ্ঠান শুরু করেছিলাম আমি। আজ সমাপ্তি অনুষ্ঠানে মঞ্চে ডাকার সৌজন্য আমাকে দেখানো হল না। এতো নোংরা রাজনীতি না হলেই ভালো হত।’ অভিযোগ আরও আছে, উষার ‘রামবা হো…’ গানের তালে মজলো সবাই। কিন্তু প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করতে ভুলেই গেছিলেন কর্তারা। পরে অবশ্য প্রদীপ জ্বালানো হয়। এমন কিছু ছেলেদের দেখা গেল যাদের গায়ে BOA এর জার্সি। হিন্দিতে কথা বলছে। এরা কারা? ইনডোর স্টেডিয়াম এর আসন ভর্তি করতে এসেছিলেন? নাকি সত্যিই ওঁরা খেলোয়াড়? এটা BOA এর অনুষ্ঠান তো? উত্তর পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here