ছোটদের ক্রিকেটে, CAB’র ‘ছেলেখেলা’

0

সন্দীপ দে

কোচিং ক্যাম্পদের নিয়ে নতুন ফর্মাটে U-15 ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু করেন CAB কর্তারা। ১৮ জেলায় খেলা হবে। এটা নাকি সরাসরি CAB যুক্ত হবে না। জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলি পরিচালনা করবে। এটাই নাকি অম্বর রায় ট্রফির বাছাই পর্বের খেলা। প্রত্যেক জেলা থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স দল অর্থাৎ ৩৬ টি দল উঠে আসবে। আর কলকাতা জোনের দল নিয়ে শুরু হবে অম্বর রায় ট্রফি। মূলপর্বে খেলায় CAB সরাসরি যুক্ত হবে। টুর্নামেন্ট চলছে। কোনও কোনও জেলায় টুর্নামেন্ট শেষও হয়ে গেছে। কিন্তু বালক বিভাগের এই U-15 ছোটদের ক্রিকেটে CAB ‘র ছেলেখেলা চলছে। তার নমুনা একাধিক। উঠে আসছে একাধিক অভিযোগ। ছেলেখেলার নমুনা কি? তালিকাটা দীর্ঘ।

Oplus_0

১) বর্ধমান জেলায় ম্যাট পেতে টুর্নামেন্টের ম্যাচ হচ্ছে। তাও আবার অর্ধেক পিচে ম্যাট। পিচের একদিকে ব্যাটিং করা হয়েছে। যা পাড়ার গলির ক্রিকেটকেও লজ্জা দেবে।

২) বয়স ভাঁড়িয়ে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে একাধিক জেলায়।

৩) বালকদের এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলেছে একটি বালিকাদের দল! হ্যাঁ, এমন আজব ঘটনা ঘটেছে চন্দননগরে। ভাবা যায়!

৪) টুর্নামেন্টে নির্ধারিত এন্ট্রি ফি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বেশ কিছু দলের কাছে নেওয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে আসছে।

৫) মেদিনীপুর জেলায় এই ছোটদের ক্রিকেটে ঢুকে পড়ছে বিহার ও ঝাড়খন্ডের বেশ কিছু ক্রিকেটার।

৬) বহু ক্রিকেটারের ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট নেই, অথচ দিব্বি খেলে যাচ্ছে এই U-15 ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।

৭) CAB’এর U-15 এই টুর্নামেন্ট নিয়ে চূড়ান্ত মিটিং,
Modalities প্রকাশ হওয়ার আগেই উত্তর দিনাজপুর জেলায় হয়ে গিয়েছে এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। সেই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স দলের নামও CAB তে জমা দেওয়া হয়। এটাও সম্ভব? এতো মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুই হল না, তার আগে টেস্ট পরীক্ষার ফলাফলকে মাধ্যমিক ফলাফলের সমান দেখিয়ে পাশ করার অন্যায় আবদার করার মত ব্যাপার।

৮) টাকা দিলেই খেলা যাবে U-15 ক্রিকেট। নির্দিষ্ট কোনও মানদণ্ড নেই।

৯) এই টুর্নামেন্ট জেলায় জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে জেলা ক্রীড়া সংস্থায় অর্থ রোজগারের লক গেট খুলে দিয়েছে CAB?

Oplus_131072

জেলায় জেলায় তৃণমূলস্তরের ক্রিকেটাররা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে অম্বর রায় ট্রফির মূলপর্বে খেলার সুযোগ পাবে – CAB এর এই উদ্যোগটা প্রশংসনীয়, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু ভাবনার সঙ্গে প্রয়োগ পদ্ধতিতে মিল নেই। CAB বলেই দিয়েছিল প্রতি জেলায় নূন্যতম ৮ টা টিম নিয়ে টুর্নামেন্ট করতেই হবে। এন্ট্রি ফি ১৫ হাজার টাকা। এখানেই যত গন্ডগোল। টাকা দিলেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া যাবে। কোনও মানদন্ড নেই। বেশ কিছু জেলা ২৬ টা, ৩০ টা,৩৯ টা করে কোচিং ক্যাম্পের কাছ থেকে ১৫ হাজার করে টাকা নিয়ে টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্তারা। অথচ কিছু জেলার মাঠে নাকি ক্রিকেটারদের জন্য সুষ্ঠু পরিষেবা নেই। যেমন নদিয়া ও মেদিনীপুরের কোনও কোনও ম্যাচে সাইট স্ক্রিন ছিল না। বাচ্চারা জল খেতে চাইলে বলা হয়েছে, মাঠের ধারে কল আছে, সেখানে গিয়ে জল খাও। জেলার আম্পয়ারদেরও ক্ষোভ আছে। তাঁদের নাকি প্রতি ম্যাচে মাত্র ৪০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এক জেলার আম্পয়ার Inside sports কে বলছিলেন, “জেলার কর্তারা দল গুলো থেকে ১৫ হাজার করে টাকা নিচ্ছে। অথচ আমাদের দিচ্ছে মাত্র ৪০০ টাকা। দুপুরের লাঞ্চ এর ব্যবস্থাও ভাল নয়। মেডিকেল ব্যবস্থাও ভাল নয়।”

Oplus_131072

এমন সব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় CAB’ র জুনিয়র কমিটির চেয়ারম্যান সনটাই ওরফে শুভ্রদীপ গাঙ্গুলির সঙ্গে। তিনি জানান, মঙ্গলবার কথা বলবেন। কারণ তিনি পারিবারিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত আছেন।
এই সব অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে Inside sports কে CAB সচিব বাবলু কোলে বলেন,” নানান অভিযোগ আসছে ঠিকই। এই ফর্মাটে প্রথমবার টুর্নামেন্ট হচ্ছে। প্লাস, মাইনাস তো থাকবেই। আমরা খতিয়ে দেখছি। যাতে ভবিষ্যতে এমন অভিযোগ না ওঠে।”
আপনি কি জানেন, বালকদের এই টুর্নামেন্টে বালিকাদের চন্দননগরে একটা দল খেলে ফেলেছে! আপনাদের এই টুর্নামেন্ট নিয়ে মিটিং, Modalities
প্রকাশের আগেই
উত্তর দিনাজপুর জেলায় এই টুর্নামেন্ট হয়ে গেছে! আপনাদের কাছে সেই জেলা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স দলের নামও জমা দিয়েছে। এটা কি করে সম্ভব?
উত্তরে বাবলু কোলে জানান, “চন্দননগরকে আমরা বারণ করে দিয়েছি। খুব বাজে ব্যাপার। আর উত্তর দিনাজপুর নাম জমা দিয়েছে ঠিকই বলছেন, কিন্তু সেটা আমরা সরকারি ভাবে এখনও গ্রহণ করিনি। আর বর্ধমান জেলায় অর্ধেক ম্যাটে খেলা নিয়ে আমি ডিটেলে বুধবার বলতে পারবো। বয়স ভাঁড়িয়ে খেলার ক্ষেত্রে কর্তাদেরও সৎ ও সতর্ক হতে হবে। সব তো CAB একা কিছু করতে পারবে না। দেখুন ভাই, অভিযোগ আসছে ঠিকই। আমরা খতিয়ে দেখছি।”

CAB আর্থিক ভাবে শক্তিশালী সংস্থা। কিন্তু ক্রিকেট পরিকাঠামো যেন রং বেরংয়ের কাঁচের চুড়ির মত। বাইরে থেকে দেখতে চমৎকার লাগে। কিন্তু একটু আঘাতেই ভেঙে পরে, বেরিয়ে আসে বঙ্গ ক্রিকেটের কঙ্কাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here