*সন্দীপ দে *
অবশেষে, হ্যাঁ, অবশেষে
ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস ফেডারেশনের (WBDSF) AGM হতে চলেছে আগামীকাল ( ১ ফেব্রুয়ারী) রবিবার। মুর্শিদাবাদ জেলা শহর বহরমপুরে হতে চলেছে এই সংস্থার ৮৪ তম AGM, ওই দিনই তৈরী হবে নতুন কমিটি। কিছু কর্তার অবহেলায় সাড়ে তিন বছর ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এই সংস্থাটি। প্রশ্ন একটাই নতুন কমিটি গঠন হওয়ার পর ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস ফেডারেশনের হাল কি ফিরবে? এই প্রশ্ন উঠছে জেলা ক্রীড়া মহলেই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিশ্বনাথ দত্ত যখন IFA’এর সচিব ছিলেন তখন বাংলার সকল জেলা ক্রীড়া সংস্থার (DSA) অ্যাফিলিয়েশন দিয়েছিলেন বিশ্বনাথ দত্ত। জানা যায়,পাঁচের দশকে পশ্চিমবঙ্গের সকল জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস ফেডারেশন। এই জেলা ফেডারেশন সমস্ত জেলা নিয়ে বিভিন্ন খেলা পরিচালনা করত। বিশ্বনাথ বাবুই এই সংস্থাকে IFA এর অ্যাফিলিয়েশন দিয়েছিলেন। নতুন করে এই সংস্থাকে গড়ে তোলার জন্য বিশ্বনাথ দত্তর ভূমিকা আছে। জেলা ফেডারেশনকে IFA এর গভর্নিং বডিতে স্থান দিয়েছিলেন IFA এর তৎকালীন সচিব প্রদ্যুৎ দত্ত। পরবর্তীকালে যত দিন গিয়েছে নিজের গতিতেই এগিয়ে চলেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস ফেডারেশন। এই সংস্থায় কোনও না কোনও ভাবে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে, জেলার ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য জড়িয়ে ছিলেন বিশ্বনাথ দত্ত,প্রদ্যুৎ দত্ত, মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী। জেলা ফেডারেশনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এরিয়ান ক্লাবের সর্বময় কর্তা সমর পাল। পাশে থেকেছে IFA, CABও। সরাসরি ইনভলভমেন্ট না থাকলেও সরকারি ভাবে জেলা ফেডারেশনের এখনও চিফ পেট্রোন হিসেবে নাম রয়েছে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির।

একটা সময় কলকাতা শহরে এই সংস্থার কোনও অফিস ছিল না। বাম জমানায় তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ট আশু করের সহায়তায় সব জেলাকে নিয়ে ফেডারেশন কর্তারা বৈঠক করতেন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। আশু করের উদ্যোগেই যুবভারতীর ফ্রেন্ডস অফ দ্য স্টেডিয়ামে একটা অফিস ঘরও দিয়েছিলেন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী। তারও পরে সুভাষ চক্রবর্তীর সাহায্যে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে জেলা ফেডারেশনের একটি অফিস ঘরের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় আসার দেড় বছর পর নেতাজি ইন্ডোর থেকে জেলা ফেডারেশন দপ্তর সহ বাকি ছোট খেলার সব সংস্থা গুলিকে উচ্ছেদ করা হয়। তারপর থেকেই এই জেলা ফেডারেশনের কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই। কিন্তু সব রকম খেলা করত সক্রিয় ভাবেই।
এই ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস ফেডারেশনে সৌরভ গাঙ্গুলিও স্পনসর এনে দিয়ে ছিলেন দুই বার। জেলা ফেডারেশনের গৌতম গোস্বামী (দক্ষিণ দিনাজপুর) যখন সচিব ছিলেন তখন সৌরভ CAB এর সভাপতি। ওই সময় গৌতম বাবুর অনুরোধে সৌরভ VLCC এর একটি স্পনসর জেলা ফেডারেশনে এনে দিয়েছিলেন CAB এর মাধ্যমে। গৌতম গোস্বামীর পর সংস্থার তৎকালীন সচিব বীরভূম জেলা কর্তা সুশান্ত ব্যানার্জির প্রস্তাবে ফেডারেশনকে সরাসরি hpl কোম্পানি থেকে ১৫ লক্ষ টাকার স্পনসর এনে দিয়েছিলেন সৌরভ। তারপরে ফেডারেশনের সভাপতি পদে আসেন ভারতের প্রাক্তন গোলকিপার তনুময় বসু। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ওঠে। তাই জেলা কর্তাদের ইচ্ছায় তনুময়কে জেলা ফেডারেশন ছাড়তে হয়। ঠিক তার পর থেকেই যে কমিটি আসে তারা চূড়ান্ত ব্যর্থ। জেলা ফেডারেশন কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পরে। তনুময়ের বিরুদ্ধে যতই অভিযোগ থাকুক না কেন, তিনি কিন্তু টুর্নামেন্ট করতেন। খেলা থাকলে তবেই তো সংস্থা থাকবে। বর্তমান কমিটি খেলাটাই করেনি। শুধু পদে বসে থেকেছেন। শেষ দুই বছর কোনও AGM করেনি। সাধারণ ক্রীড়া প্রেমী তো দূরের ব্যাপার, বাংলার ক্রীড়া মহলে জেলা ফেডারেশন নামটাই ভুলে গিয়েছে।

সংস্থা যখন অবহেলায়, বিলুপ্তির পথে, ঠিক এই সময় জেলার কিছু কর্তা জেলা ফেডারেশনকে বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা করছেন। তাঁদের কাছে সংস্থার কাম ব্যাকের লড়াই। যে লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন ওঁরা। খেলাকে আরও বেশি করে ফেরানোর লড়াই। কোন কর্তা, কোন পদে আসছেন? তাই নিয়ে জেলা কর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। কিছু ব্যক্তি সব জায়গায় থাকেন, যারা চেয়ারের জন্য সব কিছু করতে পারেন। কাজে নেই, পদে আছেন। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত, জেলা সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, সেই সব পদলোভীদের বাদ রেখেই নতুন কমিটির ব্লু প্রিন্ট নাকি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টায়, যদি না কোনও প্রভাবশালীর ফোন, অনুরোধ না যায় তাহলে কাজের লোক নিয়েই তৈরি হতে চলেছে জেলা ফেডারেশনের নতুন কমিটি।









