অভিষেক ডালমিয়ার উদ‍্যোগেই বাংলায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে NCC ক্রিকেট

0

ইনসাইড স্পোর্টসের প্রতিবেদন : বহু বছর আগে এই কলকাতায় শুরু হয়েছিল NCC (ন‍্যাশনাল ক্রিকেট ক্লাব)। শোনা যায়, নতু কোলে, বিশ্বনাথ দত্ত সহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেট প্রশাসক ছিলেন এই NCC-এর ফাউন্ডার মেম্বার। পরবর্তীকালে এই NCC-এর দায়িত্বে এসেছিলেন সফল প্রশাসক প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়া। তিনি প্রয়াত হওয়ার পর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৈরি হয় লোধা কমিটি। এই লোধা কমিটি আসার পর ভারতীয় ক্রিকেটে অনেক কিছুই বদলে যায়। যেমন, এই NCC ছিল BCCI -র অ‍্যাফিলিয়েটেড ইউনিট। জানা যায়, আগে BCCI -এর নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে আর্থিক অনুদান পাওয়ার অধিকার ছিল এই NCC -র। কিন্তু লোধা কমিটির পর্যবেক্ষণের পর BCCI এর অ‍্যাফিলিয়েশন বাতিল হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, এক পদে এক ব‍্যক্তি এবং ক্রিকেটীয় কার্যকারিতা না থাকায় BCCI এর অ‍্যাফিলিয়েশন হারিয়েছে কলকাতার ন‍্যাশনাল ক্রিকেট ক্লাব। একই কারণে মুম্বইয়ের গাড়োয়াড় স্পোর্টস ক্লাবের অ‍্যাফিলিয়েশন বাতিল হয়েছে। মুম্বইয়ের আর এক সংস্থা CCI -এরও অ‍্যাফিলিয়েশন বাতিল হলেও পরে তাদের কার্যকারিতা দেখিয়ে (ব্রাবোন স্টেডিয়ামে টেস্ট ম‍্যাচ সংগঠিত করা) শেষ মুহূর্তে টিকে যায় CCI সংস্থাটি।

এখন থমকে যাওয়া এই NCCকে প্রাণ ফিরিয়ে, মূল স্রোতে ফেরানোর জন‍্য নেপথ‍্য থেকে উদ‍্যোগ নিয়েছেন জগমোহন ডালমিয়ার পুত্র অভিষেক ডালমিয়া। NCC-এর ক্রিকেটীয় কার্যকারিতা ফেরানোর জন‍্য নেপথ‍্যে থেকে অভিষেক চমৎকার পদক্ষেপ করেছেন। যে সব জেলা CAB অ‍্যাফিলিয়েটেড ইউনিট নয়, সেই সব জেলাদের নিয়ে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু করে দিয়েছেন। এই জেলা দলগুলি যেমন ক্রিকেটের মূল স্রোতে ফেরার সুযোগ পাচ্ছে, ঠিক তেমনি NCCও নিজের কার্যকারিতা ফেরাতে পারছে। আন্তর্জাতিক নিয়মেই ম‍্যাচগুলি হচ্ছে। পাশাপাশি এক পদ, এক ব‍্যক্তিও নিয়মও মানা হচ্ছে।

গত বছর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোক নগরে এই টুর্নামেন্ট হয়েছিল। আর এই বছর NCC অনেক বড় করে বীরভূম জেলার সিউড়ি শহর থেকে আধ ঘন্টার দুরত্বে থাকা বড় গুমসিমা গ্রামের MGR sports academy-র মাঠে T-20 ফর্ম‍্যাটে ৬ দলীয় টুর্নামেন্ট শুরু করে দিয়েছে ন‍্যাশনাল ক্রিকেট ক্লাব। এই টুর্নামেন্টে যে ৬ জেলা অংশ নিচ্ছে তার হল, দার্জিলিং, কালিম্পং , আলিপুরদুয়ার, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও কম্বাইন অ্যাভেনজার্স দল। ১১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে। ফাইনাল ২৭ জানুয়ারি। NCC এর আরও একটা লক্ষ‍্য হল যে সমস্ত জেলা সিএবি নথিভুক্ত নয় সেই সমস্ত জেলার প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের তুলে আনা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বীরভূম জেলার সিউড়ির বড়গুমসিমায়র জনৈক মহিম গড়ে তুলেছেন তাঁর স্বপ্পের MGR sports academy. এমন একটা গ্রামে এত সুন্দর ক্রিকেট মাঠ থাকতে পারে তা চোখে না দেখলে ভাবাই যায় না। অসাধারণ পরিকাঠামো। আর এই পরিকাঠামোটাকেই সঠিকভাবে ব‍্যবহার করছে ন‍্যাশনাল ক্রিকেট অ‍্যাকাডেমি। এই টুর্নামেন্ট আয়োজনে সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন ক্রিকেট দর্পণের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জয়দেব ভট্টাচার্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here