বৈঠক চেয়ে মোহনবাগানের চিঠি প্রত‍্যাখ‍্যান করল আইএফএ,বৃহস্পতিবার ডার্বি ম‍্যাচ অন

0

ইনসাইড স্পোর্টসের প্রতিবেদন : কলকাতা লিগের ডার্বি ম‍্যাচ ঘিরে মোহনবাগান ও আইএফএ-এর জেদাজেদি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বড় ক্লাব যা বলবে তাই মেনে চলতে হবে এমনটা মানতে বাধ‍্য নয় আইএফএ। আর সেটা পরিস্কার করতে বুধবার সন্ধ‍্যায় আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত আবার জানিয়ে দিলেন,”বৃহস্পতিবারই বড় ম‍্যাচ হচ্ছে। কোনও রকম ভাবেই দিন পরিবর্তন করা যাবে না।” আইএফএ সভাপতি অজিত ব‍্যানার্জিও একই কথা বলেন। পরে তিনি যোগ করেন,”আইএফএ-এর একটা নিজস্বতা আছে। ডার্বি ম‍্যাচ বৃহস্পতিবারই রাখা হয়েছে। দিন পরিবর্তনের কোনও প্রশ্নই নেই।”

দুই দিন ধরেই এই ম‍্যাচকে কেন্দ্র করে মোহনবাগান ও আইএফএ-এর চিঠির লড়াই চলছে। গতকাল,মঙ্গলবার আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন, “অনন্তকাল অপেক্ষা করে থাকা যায় না। লিগ শেষ করতেই হবে। বৃহস্পতিবারই নৈহাটিতে ডার্বি ম‍্যাচ হচ্ছে। ” আজ,বুধবার সকালে মোহনবাগান ফের আইএফএকে চিঠি দেয়। তাঁরা আবেদন করেন, ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করে ম‍্যাচের দিন ও স্থান বদল করা হোক। কিন্তু সেই চিঠি পাওয়ার পর বুধবার দুপুরেই সচিব অনির্বান চিঠি দিয়ে মোহনবাগানকে জানিয়ে দেন যে,বড় ম‍্যাচের প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গিয়েছে। এখন হঠাৎ বৈঠক করার সময় নেই। বৃহস্পতিবার নৈহাটিতেই ডার্বি ম‍্যাচ তারা অন রাখছেন। এটাই আইএফএ-চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

অন‍্যদিকে মোহনবাগানও বৃহস্পতিবার ম‍্যাচ খেলতে নারাজ। ডার্বি ম‍্যাচে মাঠে দল না নামালে মোহনবাগানের কি ধরনের শাস্তি হতে পারে? জবাবে আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত জানান,”আইএফএ-এর সংবিধানে যা আছে সেটাই হবে।” ডার্বি ম‍্যাচের জন‍্য কোনও টিকিটের ব‍্যবস্থা করা হয় নি। এই ব‍্যাপারে অনির্বানের ব‍্যাখ‍্যা হল, “ডার্বি ম‍্যাচে কোনও টিকিটের ব‍্যবস্থা করা হয়নি। ওপেন টু অল।”

এদিকে, আইএফএ-র অনঢ় অবস্থান দেখে বুধবার রাতে আইএফএকে ফের চিঠি দেয় মোহনবাগান। এই চিঠির বিষয় হল, ডার্বি ম‍্যাচ ঘিরে কি প্রস্তুতি নিয়েছে আইএফএ? তাদের প্রাপ‍্য টিকিট কেন পায়নি? এই সব জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে মোহনবাগান। একদিকে তারা বলছে বৃহস্পতিবার ডার্বি ম‍্যাচ খেলতে পারবে না। আবার ম‍্যাচের প্রস্তুতি,টিকিট নিয়ে জানতে চাওয়াটা হাস‍্যকর জায়গায় নিয়ে গিয়েছে মোহনবাগান। তারা ভেবেছিল তারা যা বলবে আইএফএ সেটাই মেনে নেবে। বড় ক্লাব যা অতীতে করে এসেছে। এবার আইএফএ-এর স্বার্থে সচিব অনির্বান যে পদক্ষেপ করেছে তা অবশ‍্যই প্রশংসনীয়। অতীতে প্রদ‍্যোৎ দত্ত যখন আইএফএ-এর সচিব ছিলেন তখনও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যেমন একবার শিল্ড ও ম‍্যাকডাওয়েল কাপ খেলতে চায়নি ইস্টবেঙ্গল। সেই বছর ইস্টবেঙ্গলকে বাদ রেখেই টুর্নামেন্ট করেছিলেন প্রদ‍্যোৎবাবু। তিন প্রধান বাংলার ফুটবলে একটা বড় ফ‍্যাক্টর ঠিকই,কিন্তু অপরিহার্য নয়। এটা প্রদ‍্যোৎ দত্ত বুঝিয়েছিলেন। এবার মোহনবাগানের দাবি বলুন বা অনুরোধ বলুন, তা প্রত‍্যাখ‍্যান করে বাবা প্রদ‍্যোৎ দত্তকে মনে করালেন আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here