শাস্তি পেতে চলেছেন আম্পায়াররাও! “রিপোর্ট” ঘিরেও বিতর্ক

0

সন্দীপ দে

CAB ফার্স্ট ডিভিশন ফাইনাল ম্যাচের গন্ডগোলের জেরে শাস্তি পেতে চলেছেন ৪ ক্রিকেটার। পাশাপাশি ওই ম্যাচের সংশ্লিষ্ট আম্পায়ারদেরও নাকি শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবারের আপেক্স কমিটির বৈঠকের শেষে যা খবর পাওয়া গেছে তাতে মাঠের দুই আম্পায়ার, তৃতীয়, চতুর্থ আম্পায়ার এবং ম্যাচ অবজার্ভর – এই ৫ জন নাকি আগামী এক বছর CAB এর কোনও টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ খেলাতে পারবেন না। যদিও CAB এর পক্ষ থেকে সরকারি ঘোষণা হয়নি।

আম্পায়ার ও অবজার্ভরের রিপোর্ট নিয়ে সোমবারের বৈঠক তোলপাড় হয়। সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চতুর্থ দিনের নষ্ট হওয়া সময় খেলানোর জন্য আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, দিনে রাতের এই প্রত্যেক দিনের ম্যাচ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল রাত ৮টা। নিয়ম মেনে সময় নষ্টর জন্য আরও ৩০ মিনিট খেলাতে চেয়েছিলেন আম্পায়াররা। কিন্তু “ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ”এর নির্দেশে নাকি সেই দিনের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলানো যায়নি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই “ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ”কে? সূত্রের খবর সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিতর্কিত ম্যাচের এক আম্পায়ার নাম বলেছেন আম্পায়ার কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ব্যানার্জির। এই ব্যাপারে প্রসেনজিৎ বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে Inside sports, প্রশ্ন করলে প্রসেনজিৎ বাবু বলেন,”আমি বৈঠকে ছিলাম না। আমি “ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ” নই।
যদি কেউ আমার নাম বলে থাকেন তা ভিত্তিহীন অভিযোগ, অবাস্তব। ম্যাচের দায়, দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট আম্পায়ারদেরই নিতে হবে।” একধিক আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেছে inside sports এর এই প্রতিবেদক। তাঁরা আবার আম্পায়ার কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বানার্জির পাশে থাকার বার্তা দিলেন।

আম্পায়ারদের ভূমিকা নিয়েও CAB এর অন্দরে একাধিক প্রশ্ন উঠছে।
১) কেউ বলছেন, ক্রিকেটকে বাঁচাতে গিয়ে ক্রিকেটের আইনকে খুন করা হয়েছে। একটা ম্যাচে কোনও দল ৫ ঘন্টা না খেলে সাজঘরে বসে থাকল। নিয়ম মতে, এতো সময় আম্পায়াররা অপেক্ষা কেন করলেন? বেল তুলে অনেক আগেই ম্যাচ সমাপ্তির ঘোষণা করা হল না কেন?

২)অভিজিৎ ভট্টাচাৰ্যর মত IPL ও রঞ্জি ম্যাচ খেলানো BCCI এর আম্পায়ার ইস্টবেঙ্গল -ভবানীপুর ম্যাচে অন ফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন। তিনিও এমন জঘন্য ভুল করলেন কি করে?
৩) সত্যিকারের “ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ” কে? অফিস বেয়ারর্স? নাকি টুর্নামেন্টে কমিটি?
৪) ম্যাচ শুরু করার উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। সেদিন (ম্যাচের দ্বিতীয় দিন ) ভবানীপুরের কর্তা সম্রাট সৌরভকে বিষয়টা জানালে তখনই ইস্টবেঙ্গল শিবিরে গিয়ে কথা বলেন সৌরভ। উপস্থিত সাংবাদিকরা সেদিন দেখেছিলেন। প্রশ্ন হল,তিনি কেন মধ্যস্থতা করবেন? সৌরভ এই মুহূর্তে CAB এর কোনও পদেই নেই।
৫) সৌরভ বলেই কি আম্পায়ারা তাঁর পরামর্শ অগ্রাহ্য করতে পারেননি? নাকি অন্য কোনও কারণ? ওই ম্যাচের চাপ আম্পায়ারা নিতে পারেননি এটা পরিষ্কার।ফলত, একের পর এক ভুল করে গিয়েছেন আম্পায়াররা। যতই সৌরভ মধ্যস্থতা করুন না কেন, বিতর্কর সমাধান করতে আপেক্স কমিটিকে আম্পায়ারদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে।

গত রবিবার হটাৎ আম্পায়ারদের whatsapp গ্রুপ থেকে কেন বেরিয়ে গিয়েছিলেন আম্পায়ার অভিজিৎ ভট্টাচাৰ্য? পরে যদিও আবার সেই গ্রূপে add হয়েছেন। তাহলে কি বাংলার আম্পায়ারদের মধ্যেও “ওরা -আমরা” শুরু হয়ে গিয়েছে? নাকি “ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ”র চাপে বিরক্ত আম্পায়াররাও? প্রশ্ন উঠছে অনেক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here